উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্ভুল গ্রন্থখানি হলো আল-কুরআন। আদর্শ জীবন গঠনে আল-কুরআনের ভূমিকা অপরিসীম।
কুরআন মাজিদ বিশ্বমানবের সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন নির্বাহের আল্লাহ প্রদত্ত বিধি ব্যবস্থাপনা। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যক্তিজীবন হতে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জীবন অবধি জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ও বিভাগে মানব সমস্যার অন্ত নেই। অবশ্য মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম সৃষ্টি মানবজাতিকে সমস্যার মধ্যে অসহায়ভাবে ফেলে রাখেননি। মানবজাতিকে এ সমস্যার আবর্ত হতে পরিত্রাণ করে শান্তিময় ও উদ্বেগহীন জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অগণিত নবি ও রাসুল প্রেরণ করেছেন এবং জীবন সমস্যার সমাধান হিসেবে তাদেরকে দান করেছেন আসমানি কিতাব। এ ধারায় সর্বশেষ নবি ও বিশ্বনেতা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল-কুরআন নাজিল করেছেন। তিনি মানবজীবনের সর্ববিধ সমস্যার সমাধান এই মহাগ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন ।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছি, যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা সংবলিত, হিদায়েত, রহমত এবং সুসংবাদ-মুসলিম জাতির জন্য।” (সূরা নাহল : ৮৯) রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে এজন্যই বলেছেন, “আমি তোমাদের মাঝে দুটো বিষয় রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধর, কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নত।” (মিশকাত)
পরিশেষে বলা যায়, আদর্শ এবং সফল জীবন গঠনে আল কুরআনের ভূমিকা অতুলনীয় ।