উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব সুমনের কর্মকাণ্ডে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান এবং এর সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক ।
মুনাফিকরা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়ে বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি এবং ইমান আনয়ন করেছি। আবার নিজেদের সত্যিকার বন্ধু সহযোগীদের সাথে মিলিত হলে বলে আমরাতো তোমাদের সাথেই আছি। আমরা মুসলমানদেরকে প্রতারিত করার জন্যই তাদের সাথে একথা বলে থাকি । আল্লাহ বলেন-
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا أَمَنَا . وَإِذَا
خَلَوْا إِلى شَيَطِينُهِمْ - قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ ، إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُونَ
“যখন তারা (মুনাফিকরা) ইমানদারদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে আমরা ইমান এনেছি। আর যখন তারা গোপনে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি আমরা শুধু তাদের সাথে ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি।” (সূরা আল- বাকারা : ১৪) এভাবে তারা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে। তারা বিশ্বাসঘাতকতা ও ধোঁকাবাজি করে । ফলে যারা সরলমনা, তারা সহজেই মুনাফিকদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় । এককথায়, মুনাফিকরা সামাজিক ঐক্য, শান্তি, পারস্পরিক সহানুভূতি ইত্যাদি নষ্ট করে সমাজে অনৈক্য, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ।
সুমন তার ব্যবসায় ওজনে কম দেয় এবং ভেজাল মিশিয়ে দ্রব্য বিক্রি করে। ওজনে কম দেওয়ার ফলে ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছে। আর এ প্রতারণার ক্রেতার নজরে পড়লে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং সমাজের সকলের নিকট সে হেয় প্রতিপন্ন হয়। আর ভেজাল দেওয়ার বিষয়টি যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে তাহলে সে অপরাধী হিসেবে বিচারের সম্মুখীন হবে। এছাড়া বিশৃঙ্খলা ও প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য লোকজনদের প্রভাবিত করে। এর ফলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে । সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে।
মোটকথা জনাব সুমনের কর্মকাণ্ডে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং শান্তি বিনষ্ট হবে।