উদ্দীপকের দ্বিতীয় আয়াতে মানবজীবনের চারটি পর্যায়ের আলোকপাত করা হয়েছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন-
كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ، ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ
এ আয়াতে (সূরা বাকারা : ২৮) আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনধারা উল্লেখ করে তাদের কুফরিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ।
মানুষ আল্লাহর সেরা সৃষ্টি, প্রিয়তম সৃষ্টি। তাদের তিনি অগণিত, অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন। মানুষ একটা মুহূর্তও আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া চলতে পারে না। তারপরও মানুষের খেয়ালি জীবনযাপন ও গাফিলতির অন্ত নেই। তারা আল্লাহকে অস্বীকার করে। আল্লাহর নিয়ামত স্বীকার না করে কুফরি করার ধৃষ্টতা দেখায়। আল্লাহ তাই মানুষের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেছেন— “মানুষ! কীভাবে বা কোন যুক্তিতে তোমরা আল্লাহর নিয়ামত এবং স্বয়ং তাঁকে অস্বীকার করতে পারছ? কোন গোমরাহি ও মিথ্যা আশায় ঘুরপাক খেয়ে আল্লাহকে অস্বীকার ও উপেক্ষা করার সাহস দেখাচ্ছ? অথচ তোমরা যাকে অস্বীকার করছ- তোমাদের বর্তমান অবস্থা ও তোমাদের জীবন তাঁরই নিয়ামত মাত্র। যে জীবনীশক্তি দিয়ে তোমরা তাঁর কুফরি করছ তাঁর অস্তিত্বের পিছনেও আছেন তিনি। কেননা, তোমরা ছিলে প্রাণহীন। সেখান থেকে আল্লাহ তোমাদের প্রাণ দিয়েছেন। এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে। তোমাদের পৃথিবীর জীবন শেষ হয়ে যাবে। তারপর পরকালের অসীম জীবনে তোমরা প্রবেশ করবে। সেখানে তোমাদের পুনরায় জীবিত করা হবে। এরপরে আর মৃত্যু থাকবে না। থাকবে না নতুন করে অন্য জীবন শুরু করার কোনো ব্যাপার। এ অন্তহীন জীবনযাপনের জন্য তোমাদের প্রত্যাবর্তন কেবল আল্লাহর দিকেই। সুতরাং এরপরেও কোন যুক্তিতে তোমরা আল্লাহর সাথে কুফরি করতে পার?
এ আয়াত থেকে আমরা নিম্নোক্ত শিক্ষা নিতে পারি-
১. মানুষের জীবনযাপনের মোট চারটি পর্যায়। মাতৃগর্ভে এর সূচনা । পরকাল এর সর্বশেষ রূপ যেটি স্থায়ী হয়।
২. মানুষ তার জীবনযাত্রার প্রতিটি পর্যায়েই আল্লাহর দয়া ও রহমতের মুখাপেক্ষী ।