আল কুরআনের আলোকে আরিফের চরিত্র বিশ্লেষণ করে তাকে মুনাফিক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।মুনাফিক ( ) আরবি শব্দ। এর অর্থ ভন্ড, প্রতারক, দ্বিমুখী নীতি বিশিষ্ট প্রভৃতি। অর্থাৎ যাদের অন্তরে নিফাক তথা ভণ্ডামি, প্রতারণা, ধোঁকাবাজি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তারাই মুনাফিক। মুনাফিকরা লোক দেখানোর জন্য বাহ্যিকভাবে ইমানদারসুলভ আচরণ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা অন্তরের দিক দিয়ে অবাধ্য, মিথ্যাবাদী। তারা গোপনে নানা অপরাধমূলক কাজ করে বেড়ায়। মহান আল্লাহ সুরা বাকারার ২য় রুকুর আয়াতসমূহে মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, যা ব্যবসায়ী আরিফের চরিত্রেও লক্ষণীয়।ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আরিফ গ্রামে আসলে নামাজ আদায় করেন, ইমানের কথা বলেন। কিন্তু শহরে গিয়ে তিনি নামাজ-রোজার কথা ভুলে গিয়ে নিজেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে ফেলেন। অর্থাৎ তিনি দ্বিমুখী চরিত্রের লোক এবং তার ইবাদত লোক দেখানোর জন্য। এটি মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। সুরা আল বাকারার ২য় রুকুর ৮নং আয়াতে মুনাফিকদের এরূপ দ্বিমুখী আচরণের কথা বলা হয়েছে। তারা আল্লাহ ও ইমানদারদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য মুখে ইমানের কথা বলে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ইমানদার নয়। আবার সুরা মাউনে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- তারা লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে। জনাব আরিফও লোক দেখানোর জন্য নামাজ কালাম পড়েন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছেন। তিনি মহা বিভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করে, সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করছেন। এগুলো মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। সুরা বাকারার ২য় রুকুর বিভিন্ন আয়াতে এ সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কুরআনের আলোকে ব্যবসায়ী আরিফ একজন মুনাফিক।