আয়াত-১ ও আয়াত-২ এর মধ্যে অনেক বৈশাদৃশ্য বিদ্যমান। কেননা আয়াতদ্বয়ে মুত্তাকি ও মুনাফিকের পরিচয় উঠে এসেছে। মুত্তাকি বলা হয় আল্লাহভীরু বা পরহেজগার লোকদেরকে। তারা আল্লাহকে ভয় করে সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। অপরদিকে অন্তরে কুফর, শিরক ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে মুমিনসুলভ বাক্য উচ্চারণ এবং লোক দেখানো ইবাদত সম্পন্নকারীদের নাম মুনাফিক। এ প্রকারে লোকদের কার্যাবলিকে নিফাক বলা হয় । মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য তিনটি যথা— ১. তারা কথা বললে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা ভঙ্গ করে, ৩. আমানতের খিয়ানত করে।
উদ্দীপকের ১নং আয়াতে বলা হয়েছে, তারা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে, আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করে, সকল আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস করে ও পরকালেও বিশ্বাস রাখে ৷ যা দ্বারা মূলত মুত্তাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়। আর আয়াত-২ তে বলা হয়েছে, তারা যখন মুমিনদের সাথে মিশে তখন বলে আমরা ইমান এনেছি। আবার যখন পথভ্রষ্টদের সাথে সাক্ষাত হয় তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথেই আছি। যা দ্বারা স্পষ্ট মুনাফিকির লক্ষণ প্রকাশ পায়। মুনাফিকরা ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মিথ্যা তথ্য ও সংবাদের মাধ্যমে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
সচেতন মানুষ ও মুমিনগণ মুনাফিকদের এরূপ কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলে তাও ব্যর্থ হয়। কেননা সব ধরনের বিশৃঙ্খলার মূলে মুনাফিকরা থাকলেও তারা মনেই করে না যে, বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় তারা সৃষ্টি করেছে। সর্বোপরি মুনাফিকদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্যই শান্তি ও সুখময় মানবসমাজে নেমে আসে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা আর জনজীবন হয় বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত।
তাই বলা যায়, মুত্তাকি ও মুনাফিক পরস্পর বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। 'মুমিনরা পরকালে সফলতা লাভ করলেও মুনাফিকদের পরিণতি ভয়াবহ।