আবু জাহেল ও ইবনে উবাই-এর মধ্যে পরকালে ইবনে উবাই মহা শাস্তি ভোগ করবে। কারণ ইবনে উবাই ছিল মুনাফিকদের সর্দার আর আবু জাহেল ছিল কাফিরদের সর্দার। কাফিরদের আযাবের ব্যাপারে, সূরা আল বাকারার ৭নং এর শেষে 'আযাবুন আযিম' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আর মুনাফিকদের শাস্তির জন্য সূরা বাকারার ১০নং আয়াতের শেষে 'আযাবুন আলিম' শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে।শাব্দিক অর্থে আযাবুন আলিম' বেশি কষ্টদায়ক শাস্তি। অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।” (সূরা আন নিসা-১৪৫) সুতরাং বলা যায় যে, ইবনে উবাই মহাশাস্তি ভোগ করবে। উদ্দীপকে আবু জেহেলসহ অধিকাংশ কুরাইশ কুরআনকে অবিশ্বাস করে। আর কুরাইশদের এ কুরআন অবিশ্বাসের কাজটি কুফরি বলে গণ্য। যারা কুফরিতে লিপ্ত থাকে তাদেরকে বল কাফির। সূরা বাকারার ৪নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আসমানি কিতাবের প্রতি বিশেষ করে আল-কুরআন ও অন্যান্য আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাসের স্থাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এতে বিশ্বাসী তাদেরকে মুত্তাকি বলে গণ্য করা হয়েছে। আবার ৬ ও ৭নং আয়াতে উপরোক্ত বিষয়সমূহে বিশ্বাস স্থাপন না করা লোকদের কাফির বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাদের জন্য যে শাস্তি রয়েছে তারও বার্তা দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, সূরা আল বাকারার '৮-১৩'নং আয়াতে মুনাফিকদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা ও তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির কথা বলা হয়েছে।এ আয়াতগুলোতে মুনাফিকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, মুনাফিকরা মুখে ইমান আনার কথা বলে এবং মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়ে তাদের মতো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করলেও মূলত তারা প্রকৃতপক্ষে ইমান আনে না। এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের প্রতারিত করতে চায়। তাই তারা পরকালে মহাশাস্তি ভোগ করবে।