উদ্দীপকে আঃ মান্নান সাহেব তার অনুসারীদের হযরত মুসা (আ) কর্তৃক বনি ইসরাইলদের শাস্তি প্রদান করার অনুরূপ শাস্তি দেন, যা সুরা বাকারায় বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
বনি ইসরাইল ছিল নিপীড়িত জাতি। ফিরাউন ও তার সম্প্রদায় তাদেরকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রেখেছিল। নিজেদের ক্ষমতায় স্বাধীন হওয়ার মত শক্তি তাদের ছিল না। আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে স্বাধীন করেছেন। তারা নিজেদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার লক্ষ্যে মুসা (আ) এর কাছে শরিয়ত কামনা করে। মুসা (আ) আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে তাদেরকে নতুন শরিয়তের সুসংবাদ দেন। পরবর্তীতে মুসা (আ)-এর তুর পাহাড়ে গমন ও ইসরাইল জাতির নৈতিক পদস্খলন ঘটে, যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। মুসা (আ) যখন শরিয়ত নিয়ে আগমন করে ইসরাইলদের পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার দৃশ্য দেখতে পেলেন। তখন তিনি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে তাদের পাপের শাস্তি হিসেবে একে অপরকে হত্যার নির্দেশ দেন। তাছাড়া স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত গো-বাছুরটি জ্বালিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেন। তিনি তাদেরকে ডেকে জানিয়ে দেন যে, তারা গো-বৎসকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে অত্যন্ত জঘন্য পাপ করেছে। নিজেদের ওপর জুলুম করেছে। সুতরাং তদের পাপের শাস্তি লাভ এবং তওবা করতে হবে। বনি ইসরাইলদের পাপ এতো জঘন্য ছিল যে, শুধু তওবা যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি তাদেরকে একজন অন্যজনকে হত্যার নির্দেশ দেন। হযরত মুসা (আ) এর আদেশে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও তারা নিজেদের মধ্যেকার ৭০ হাজার সদস্য একে অপরকে হত্যা করেছিল। এরপর আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দেন।
আলোচ্য উদ্দীপকেও দেখতে পাই, আঃ মান্নান সাহেব ফিরে এসে তার অনুসারীদের তাদের কৃতকর্মের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। যা সুরা বাকারায় আলোচিত মুসা (আ) কর্তৃক আরোপিত শাস্তির মত।