আয়াতটি মুনাফিক ব্যক্তিদের সম্পর্কে বর্ণিত, মুনাফিক ওই প্রকৃতির লোক যারা মৌখিকভাবে ইমানের ঘোষণা দেয় এবং নামায, রোযাও পালন করে। কিন্তু অন্তরে কুফরি পোষণ করে। অর্থাৎ এদের ইমানের ঘোষণা ও যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি লোক দেখানোর জন্য। দুনিয়ার স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা ইসলামও মুসলিমদের ক্ষতি সাধনের জন্য ব্যস্ত হয়ে থাকে।মুনাফিকগণ মৌখিকভাবে বলে যে, আমরা আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ইমান এনেছি; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ইমান আনেনি। মুনাফিকরা অবুঝের ন্যায় আল্লাহ ও মুমিনগণকে ঠকাতে চায়; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শেষ পর্যন্ত মুনাফিকরা নিজেরাই ঠকে এবং অপমানিত হয় এবং অসম্মানিত হয়। এ ধূর্ততার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করেন। মুনাফিক ব্যক্তি সত্যচ্যুত হয়। মুনাফিকদের অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য বলে তারা আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করে। তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় ও অশান্তি সৃষ্টি করে। অথচ তারা এ অন্যায়কে বুঝতে চেষ্টা করে না এবং নিজেদেরকে সংশোধন করার চেষ্টাও করে না। মুনাফিকদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাদের অন্তঃকরণে ব্যাধি রয়েছে। আর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুত তাদের মিথ্যাচারের দরুণ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" (সূরা আল-বাকারা: ১০)অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, "মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে বসবাস করবে।"অতএব, আখিরাতে মুনাফিকদের জন্য কঠিন শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে।