জনাব আমিনের কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা ইহ ও পরকালে সুফল বয়ে আনবে।
পৃথিবীতে মানুষ আল্লাহর খলিফা। যে জন্য তার জীবনযাপন যেমন লাগামহীন হতে পারে না, তেমনি সে দায়িত্বহীনও হতে পারে না । খিলাফতের খলিফা থেকে শুরু করে গৃহস্থ ঘরের অতি নগণ্য চাকর পর্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। মর্যাদা ও অবস্থানগত কারণে হয়তো কারো দায়িত্বের বিস্তৃতি কম, আর কারো বিস্তৃতি ব্যাপক, কিন্তু সবাই দায়িত্বশীল এবং কিয়ামতের কঠিন ময়দানে সব ব্যক্তিকেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
উদ্দীপকে ফিরোজের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আমিন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হযরত উমর (রা) এর অনুকরণে রাতের বেলা ছদ্মবেশে জনগণের অবস্থা ঘুরে দেখেন। দরিদ্র ও অভাবীদের অর্থ সাহায্য করেন । যা দ্বারা তার দায়িত্বশীলতার বিষয়টি প্রকাশ পায়। দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে সতর্ক করে রাসুল (স) বলেন, “সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে” (বুখারি ও মুসলিম)। এ হাদিসে যদিও বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু সংখ্যক লোকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃপক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিরই অপরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে দুনিয়াতে আল্লাহ তার সম্মান-মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। কিয়ামতে সামগ্রিকভাবে এবং এককভাবে সবাইকেই এ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। পরকালে যারা এ সম্পর্কে সন্তোষজনক জবাব দিবে তারা পুরষ্কার পাবে।
সুতরাং বলা যায়, প্রত্যেক মানুষই দায়িত্বশীল। আর এ ব্যাপারে তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। তাই সবাইকে যার যার দায়িত্বে সর্বাত্মক সচেতন হতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে যত্নবান হতে হবে।