হাসান হাদিসের মাধ্যমে মিথ্যাবাদিতার পরিণাম সম্পর্কে অবহিত করতে চেয়েছে। সমাজে এর ভয়াবহ প্রভাব বিদ্যমান।ইসলামে মানবজাতিকে সর্বাবস্থায় মিথ্যাচারিতা পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বা দোষারোপ করা এসবই ঘৃণ্য সামাজিক অপরাধ। অবাস্তব ও অসত্য তথ্য প্রদান মিথ্যাচার। এটি ঘৃণ্য বদম্বভাব। মিথ্যাচার মানুষকে কলঙ্কিত ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে তার ক্ষতি বয়ে আনে। ইহকালে ও পরকালে তাকে ধ্বংস করে দেয়। এজন্য পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মিথ্যাচার বর্জনের নির্দেশ দিয়ে ঘোষণা করেন-'তোমরা মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাক।' (সূর আল-হজ্ব : ৩০)মিথ্যা কথা বলা মুনাফিকের নিদর্শনও বটে। হাদিস শরিফে মুনাফিকের তিনটি আলায়তের কথা বলা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে।বর্তমান সমাজে কথায় কথায় মিথ্যাচারিতা মিথ্যা অপবাদ, কলঙ্ক রটানো প্রভৃতি অহরহ ঘটছে। এর ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি তৈরি হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা বিনষ্ট হয়। মিথ্যাচারীরা আল্লাহর অভিসম্পাত প্রাপ্ত। আল্লাহ বলেন, 'মিথ্যাচারীরা ধ্বংস হোক।' (সূরা আয-যারিয়াত: ১০)সর্বোপরি মিথ্যা মানুষকে জাহান্নামের পথে ধাবিত করে। কেননা রাসূল (সা.) বলেন, 'তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাক। কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়, আর পাপাচার জাহান্নামের পথ দেখায়।'