উদ্দীপকের ২ নম্বর উৎসটি অর্থাৎ হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়। হাদিস ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। মহানবি (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে সাধারণভাবে হাদিস বলা হয়। হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা ও বাস্তবরূপ। কেননা হাদিস ছাড়া কুরআন বোঝা অসম্ভব। কুরআনের হুকুম আহকামগুলো সব বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা নেই। তা হাদিসের মাধ্যমে বিশ্লেষণপূর্বক শরিয়তের বিধান হিসেবে আমাদের কাছে এসেছে। যার ফলে আমরা সহজেই কুরআন বুঝতে পারি। যেমন-
পবিত্র কুরআনে সালাত কায়েম করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কখন, কীভাবে সালাত আদায় করতে হবে তা বলা হয়নি। তাছাড়া কোন ইবাদতের মর্যাদা কী তাও নির্ণয় করা হয়নি। কোনটি ফরজ, কোনটি সুন্নাত, কোনটি মানদুর তাও বলা হয়নি। এসব কিছু আমরা হাদিস থেকে জানতে পারি। এজন্য হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ও কাজের অনুসরণ করা আবশ্যক। কেননা কুরআনের নির্দেশনা মহানবি (সা.) হাদিসের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করেছেন। হাদিস ব্যতীত কুরআনের নির্দেশনা আমাদের জন্য বুঝা সম্ভব হতো না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করলে প্রকারান্তরে আল্লাহ তায়ালারই আনুগত্য করা হয়। আল্লাহ তায়ালা এতে সন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "রাসুল তোমাদের জন্য যা নিয়ে আসেন, তা আঁকড়ে ধর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে ফিরে থাক।” (সূরা হাশর: ৭) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "তোমরা আল্লায় এবং আল্লাহর রাসুলের আনুগত্য কর।" (সূরা আলে ইমরান: ৩২, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পূর্ণ আনুগত্য ও যথার্থ আনুগত্য করতে হলে পবিত্র কুরআনে পাশাপাশি হাদিসের ওপরও আমল করতে হয়।সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই হাদিস হলো কুরআনের ব্যাখ্যা।