উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি মনীষীগণ হিজরি ২য় শতকে রাসুল (সা.) ও সাহাবাদের বক্তব্য তারা হাদিস সংগ্রহে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাসুল (সা.) ও সাহাবাদের বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে বা হাদিসকে একটি শাস্ত্রে রূপদান করেন। হিজরি ২য় শতক ছিল তাবেইন ও তাবি-তাবিঈন-এর যুগ। এ যুগেও হাদিস মুখস্থকরণ, ব্যাপক চর্চা ও সংকলনের ধারা শুরু হয় এবং হাদিসশাস্ত্রের ক্রমবিকাশ ও সংরক্ষণের সর্বোত্তম ধারাটি ক্রমোন্নতির পথে অগ্রসর হতে থাকে। হাদিস লিখনের ব্যাপারে উমর ইবনে আব্দুল আযীয (র.) এক সরকারি ফরমান জারি করেন। এ ফরমানের ফলে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের যে প্রবাহ তরঙ্গায়িত হয়ে উঠেছিল। হিজরি তৃতীয় শতাব্দী ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এ সময় হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি কিতাব সংকলিত হয় যা সিহাহ সিত্তাহ নামে পরিচিত। যথা:
১. সহীহ বুখারি; ২. সহীহ মুসলিম; ৩. সুনানে নাসাই; ৪. সুনানে আবু দাউদ; ৫. জামি তিরমিযি; ৬. সুনানে ইবনে মাজাহ।হাদিস শাস্ত্রে সংকলন করে আমাদের সামনে বিশুদ্ধতম হাদিস গ্রন্থসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যেসব মনীষীগণ অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তারা হলেন- ইমাম মালেক (র.), ইমাম বুখারি (র.), ইমাম শাফেয়ী (র.), ইমাম মুসলিম, আবু ইসা, আব্দুর রহমান ইবনে সিননান আনসারী, আবু দাউদ সোলায়মান, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ (র.) প্রমুখ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মুসলমানরা হাদিসের চর্চা ও অনুশীলন খুব সহজেই করতে পারছেন।