উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- হাদিস।
মহানবি (সা.)-এর জীবদ্দশায় হাদিস সংরক্ষণের উপায় নিচে আলোচিত হলো-
১. হাদিস শিক্ষাকরণ ও মুখস্থকরণ: প্রিয় নবি (সা.)-এর বাণীকে সাহাবিরা তাঁদের ও পরবর্তীকালে মানুষের সুপথ নির্দেশক মনে করে তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করে এত্যন্ত নিষ্ঠা, আগ্রহ ও আন্তরিকতার সাথে তা কণ্ঠস্থ করে রাখতেন।২. হাদিসের লিখন : লিখিত আকারেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলে অনেক হাদিস সংরক্ষিত হয়। বহু সাহাবি রাসুল (সা.)-এর অনুমতিক্রমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাদিস লিখে রাখতেন। সে হিসেবে প্রথম যুগে লিখিত কয়েকটি সহিফা হলো-- সহিফায়ে সাদিক, সহিফায়ে আলি, সহিফায়ে সহিহাহ, সহিফায়ে উবায়দাহ, সহিফায়ে দাওয়াতে রিসালাহ প্রভৃতি।
৩. সহীফা আনাস ইবন মালেক (রা.): সাঈদ ইবনে হেলাল বলেন, আনাস (রা.) তার স্বহস্তে লিখিত সংকলন বের করে আমাদের দেখাতেন এবং বলতেন, এই হাদিসগুলো আমি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট শুনেছি এবং লিপিবদ্ধ করার পর তা পাঠ করে তাঁকে শুনিয়ে সত্যায়িত করে নিয়েছি। (সহিফায়ে হাম্মামের ভূমিকা, পৃ.৩৪)৪. হাদিস শিক্ষাদান ও চর্চা: হাদিস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল সাহাবিগণের পারস্পরিক হাদিসচর্চা ও শিক্ষাদান।
৫. হাদিসের বাস্তব অনুশীলন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিগণ নিজেদের জীবনে হাদিসের শিক্ষা ও দর্শন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে হাদিস সংরক্ষণের জীবন্ত পদ্ধতিতে পরিণত করেন।এছাড়াও রাসুল (সা.)-এর চিঠিপত্র, সন্ধিপত্র, চুক্তিনামা, সনদ, বিভিন্ন ফরমান ও মক্কা বিজয়ের ভাষণ বিদায় হজের ভাষণ ইত্যাদি লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল।