“লজ্জাশীলতা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।" হাদিসটি ইমান বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসাংশের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের শাখা।' এ অংশটুকু বুখারি ও মুসলিম শরিফের কিতাবুল ইমান হতে চয়ন করা হয়েছে। এটি পাঠ্যপুস্তকের ২নং হাদিস। রাসুল (সা.) বলেছেন, ইমানের সত্তরটির বেশি শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তন্মধ্যে লজ্জাশীলতা অন্যতম শাখা। মূলত লজ্জাবোধ না থাকলে অনায়াসে অন্যায় ও পাপ কাজ করা | ভ যায় যা ইমানের পরিপন্থি। ইমানের দাবি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত পথে জীবনযাপন করা। লজ্জাহীনতা, সুদ, ঘুষ, মিথ্যাচার, প্রতারণা, ব্যভিচার, হত্যা, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, ঝগড়া-ফাসাদ ইত্যাদি অনাচার ইমানকে ধ্বংস করে। এজন্য রাসুল (সা.) একথা বলেছেন। পূত-পবিত্রতা ও শালীনতার অন্যতম বিষয় হলো লজ্জাশীলতা। লজ্জাশীলতা মানুষকে শালীন হতে সাহায্য করে। লজ্জাশীলতার ফলে মানুষ পরকালীন সফলতা লাভ করবে। মহানবি (সা.) বলেন, “লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণময়।” (মুসলিম) মহানবি (সা.) আরও বলেন, “লজ্জাশীলতা ইমানের একটি শাখা।” (সুনানে নাসাই) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, 'অশ্লীলতা যেকোনো জিনিসকে খারাপ করে এবং লজ্জাশীলতা যেকোনো জিনিসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।" (তিরমিযি) সুতরাং চলাফেরা, পোশাক-পরিচ্ছদ, কথাবার্তা, আচার-আচরণে লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। সর্বাবস্থায় রুচিসম্মত, ভদ্র, সুন্দর ও মার্জিত গুণাবলির অনুসরণ করার দ্বারা শালীনতা চর্চা করা যায়। শালীনতার ফলে মানুষের মানসম্মান সুরক্ষিত থাকে, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। অতএব, আমরা সকল কাজে শালীনতা রক্ষা করব। অচীন ও অশালীন কাজ ত্যাগ করব।