উদ্দীপকে উল্লিখিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছক-২ এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহান আল্লাহ বলেন, নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে যেমন আছে তাদের ওপর পুরুষদের।" (সূরা আল-বাকারা: ২২৮) স্ত্রী ও কন্যা সন্তানদের অধিকারের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন- فَاتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ অর্থাৎ, “তোমরা স্ত্রী লোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে অবশ্যই ভয় করে চলবে।” বিদায় হজের ভাষণের মহানবি (সা.) নারী জাতির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُونِ অর্থাৎ, “তোমরা স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে জীবনযাপন করবে।” (সূরা আন-নিসা: ১৯), রাসুল (সা.) বলেন, "তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।" আমাদের প্রিয় নবি নারীদের শ্রদ্ধা করতেন, সম্মান করতেন এবং স্ত্রী ও মেয়েদের ভালোবাসতেন। কন্যাসন্তান প্রসঙ্গে মহানবি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির কোনো কন্যা সন্তান থাকে আর সে তাকে জীবন্ত কবর দেয় না, তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না, ছেলে সন্তানকে কন্যাসন্তানের ওপর প্রাধান্য দেয় না সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে, একদা জনৈক সাহাবি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের ওপর স্ত্রীদের কী অধিকার রয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, "তুমি যা খাবে তাকেও তা-ই খাওয়াবে, যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরিধান করাবে, তাদের মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না, তাদের গালিগালাজ করবে না, আর গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও তাদের বিচ্ছিন্ন রেখ না।" পিতার সম্পদের অংশ প্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষের অংশ আছে। অনুরূপভাবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে নারীর অংশ আছে।” (সূরা আন-নিসা : ০৭) মা হিসেবে শ্রদ্ধা ও খিদমত লাভের অধিকার সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।" তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ছক-২ এ নারীর অধিকারের বিষয় বুঝানো হয়েছে। আর নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছক-২ এর ভূমিকা অপরিসীম।