উদ্দীপকে উল্লিখিত অসাধু ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডটি হলো। প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। আর প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জন হলো 'হারাম' উপার্জন বা অবৈধ উপার্জন। হারাম অর্থ নিষিদ্ধ মন্দ, অসংগত, অবৈধ, অপবিত্র ইত্যাদি। পরিভাষায়, যেসকল কাজ বা বস্তু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম উপার্জন বলা হয়। ন্যায়-নীতিহীন, মানবতাবর্জিত, মানুষের জন্য ক্ষতিকর পন্থায় আয় উপার্জনকে হারাম উপার্জন বলা হয়। যেমন- সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, পণ্যে ভেজাল, অর্থাৎ অসৎ উদ্দেশ্যে পণ্য গুদামজাতকরণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা অর্জন ইত্যাদি।
উদ্দীপকে জুলাই বিপ্লবের পরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বা দ্রব্যাদি গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। ফলে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসমূহ সাধারণ ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এখানে দেখা যায় এ ব্যবসায়ীরা মানবতা বিবর্জিত ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে যা হারাম উপার্জন বলে সাব্যস্ত। হারাম উপার্জিত অর্থের বিধান ও হারাম বা অবৈধ। হারাম উপার্জিত অর্থের কুফল ও পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত কবুল হয় না। আল্লাহর কাছে দুআ কবুলের জন্য হালাল উপার্জন পূর্বশর্ত। হারাম উপার্জনকারীর পরিণাম হলো জাহান্নাম। রসুল (সা.) বলেছেন, "হারাম খাদ্যে পরিপুষ্ট যে দেহ, নরকাগ্নিই তার জন্য উপযুক্ত।” (আহমদ ও বায়হাকি।) সুতরাং বলা যায় যে, হারাম উপার্জিত অর্থ একজন মানুষের পরকালীন জীবনে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন করবে।