'ন' সাহেব তাঁর পুত্রকে 'ইসলাম শিক্ষা' বিষয় নির্বাচনের পরামর্শ প্রদান করেন।ইসলাম শিক্ষা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যার পঠন-পাঠন, অধ্যয়ন, অনুশীলন দ্বারা আল্লাহর দেওয়া পরিপূর্ণ জীবনবিধান ইসলামের স্বরূপ 'সম্পর্কে' জ্ঞানলাভ করা যায় এবং তদানুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনা করে আল্লাহ প্রদত্ত খেলাফতের দ্বায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা যায়। এক কথায় ইসলাম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানলাভকরার শিক্ষাই হলো ইসলাম শিক্ষা।ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থার নাম। মানবজীবনের এমন কোনো দিক নেই যার নির্দেশনা ইসলাম দেয়নি। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সার্বিক ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। তাই ইসলাম শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ হিসেবে জানা যায়। ইসলাম শিক্ষার স্বরূপ হবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিধিসম্মত শিক্ষা, কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা মেনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কতগুলো বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞান রাখা একান্ত প্রয়োজন। যেমন- মহান আল্লাহ, রাসুল, ফেরেশতা, কিয়ামত, পুনরুত্থান, সালাত, সাওম, হজ, যাকাত, হালাল-হারাম ইত্যাদি। এগুলো সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।ইসলাম শিক্ষার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো মানবতা ও নৈতিকতার বিকাশ সাধন, মানব প্রকৃতির প্রতি শিক্ষার মাধ্যমে জাগরিত ও বিকশিত করা। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আত্মার উন্নতি হয়। এ শিক্ষা ব্যক্তি চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কর্তব্যবোধ জাগ্রতকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় করে তুলতে সহায়তা করে।তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ন' সাহেব মানুষের চরিত্র, কর্মদক্ষতা ও আচরণকে পরিশীলিতকারী শিক্ষা বলতে ইসলাম শিক্ষা বুঝিয়েছেন। ইসলাম শিক্ষাই ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণময় শিক্ষা।