উদ্দীপকের আয়েশা তাঁর পঠিত বিষয়ের মাধ্যমে স্রষ্টার পরিচয়সহ মানুষের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে জেনেছে যা ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলামি শিক্ষা বলে।
কেননা ইসলাম শিক্ষা মানব রচিত অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যাবলি নিচে তুলে ধরা হলো : তাওহিদভিত্তিক : আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা, রিজিকদাতা, পালনকর্তা, মালিক রাজাধিরাজ, শাসনকর্তা ও সার্বভৌমত্বের মালিক হলেন মহান আল্লাহ। আল্লাহ ইরশাদ করছেন, “নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ আল্লাহ একক সত্তা।” (সূরা কাহাফ : ১১০) এটিই তাওহিদ । ইসলাম শিক্ষাব্যবস্থা হলো তাওহিদভিত্তিক । কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা : মানবজাতির দিশারি হিসেবে অসংখ্য নবি-রাসুলকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বাণী সহকারে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এ মর্মে ইরশাদ হচ্ছে, “আর আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসুল পাঠিয়েছি যেন তারা আল্লাহর ইবাদাত করে এবং তাগুতকে পরিত্যাগ করে।” (সূরা আল-নাহল : ৩৬)
তাছাড়া ইসলাম শিক্ষা মানব রচিত নয়। ইসলাম শিক্ষার প্রধান উৎস কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক। যাতে রয়েছে মানুষের জন্য ইহ ও পরকালীন কল্যাণ। সমন্বিত শিক্ষা : মানবজাতির সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা তথা বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যে শিক্ষা অপরিহার্য, সে শিক্ষাকে যদি ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে পরিবেশন করা হয়, তাহলে সেটাও ইসলাম শিক্ষায় পরিণত হয়।
তাছাড়া মানবজীবনের দায়-দায়িত্ব, নৈতিক জীবনযাপনসহ ইহ- পরকালীন লাভের সকল শিক্ষা প্রদান করে ইসলাম শিক্ষা। যা সর্বজনীন, শাশ্বত ও অনন্য।