উদ্দীপকে বর্ণিত সারাহ এর শেষ উক্তিটি হলো মহানবি (সা.) বলেছেন, 'প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর প্রতি বিদ্যা শিক্ষা করা ফরয।' সারাহ এর শেষ উক্তিটিতে যে শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে সেটি হলো ইসলাম শিক্ষা। নিম্নে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো-
ইসলামের আকিদা, বিশ্বাস এবং ইবাদত করতে এবং ইসলাম অনুযায়ী জীবনযাপন করতে ন্যূনতম যতটুকু জ্ঞান প্রয়োজন, ততটুকু ইসলামি শিক্ষা অর্জন করা ফরযে আইন। ইসলামের মৌলিক ও প্রাথমিক বিষয়গুলো জানা ব্যক্তিগতভাবে সবার জন্য ফরয। কেননা রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর জ্ঞানার্জন করা ফরয।' (বায়হাকি, ইবনে মাজাহ)
ইসলামি শিক্ষায় রয়েছে মানজীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সামগ্রিক নির্দেশনা। একজন মুসলিমের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক — সবকিছুই ইসলামি জীবন বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই ইসলামি জীবন বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হলে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করা এবং তা জীবনে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য কর্তব্য। ইসলাম শিক্ষার জ্ঞানার্জন দ্বারা আল্লাহর পরিচয় জানা যায়; ফলে আল্লাহর আনুগত্য করা সহজ হয়। দ্বীনের প্রচার, প্রতিষ্ঠা সমুন্নত ও অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ইসলাম শিক্ষা অপরিহার্য। সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য ইসলামের জ্ঞান একান্ত আবশ্যক । ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। মানুষের মেধা, মননশীলতা ও মানবিকতার বিকাশ হয়। মানুষের আচার-আচরণ পরিশীলিত ও পরিমার্জিত হয়। ইসলামের জ্ঞানার্জনকারীর মর্যাদা অনেক বেশি। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'রাতে এক ঘণ্টা জ্ঞান চর্চা করা সারারাতের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। (দায়েমি) মহানবি (সা.) আরও বলেন, 'যে ব্যক্তি জ্ঞানান্বেষণ করে, তার অতীতের পাপ মোচন হয়ে যায়। (তিরমিযি) তাই আমাদের উচিত ইসলামি শিক্ষা অর্জন করা।