উদ্দীপকে বর্ণিত 'চ' এর ধারণাকে আমি সঠিক মনে করি না ।
জনাব 'চ' মনে করেন তার ছেলের বৃদ্ধি প্রতিবন্দী হওয়া তার পূর্বপুরুষের পাপের ফসল এবং এটি একটি অভিশাপ, অথচ মানব কল্যাণের ধর্ম ইসলামে 'প্রতিবন্দী বলতে আলাদা কোনো শ্রেণিবিভাগ নেই, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষই এদের পরিচয়।
অন্যান্য মানুষের অধিকার ইসলাম যেভাবে নিশ্চিত করেছে তেমনি প্রতিবন্ধীর অধিকার নিশ্চিত করেছে। পারস্পরিক অধিকার নিশ্চিতকরণে ইসলাম সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আল-কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন— “ইহসান হলো পিতামাতার প্রতি, আত্মীয়স্বজন, ' ইয়াতিম- মিসকিন, নিকট ও দূর-পড়শী, সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের দাস- দাসীদের প্রতি।” (সূরা আন-নিসা : ৩৬)
এখানে আল্লাহ তায়ালা অক্ষম, প্রতিবন্ধী ও অভাবীদের প্রতি ইহসান করাকে ফরয করেছেন। আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী ছড়িয়ে আছে। সৃষ্টির সেরা মানবশিশুরা শারীরিক, মানসিক ও ইন্দ্ৰিয় প্রতিবন্ধী হয়ে আমাদের সমাজে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হচ্ছে। নানা রকম অপমানসূচক শব্দ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়। ইসলাম এ ধরনের কাজকে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছেন ।
প্রতিবন্ধী শব্দটা নিয়েও প্রচলিত রয়েছে অনেক রকম কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। আমাদের দেশে শিশুর প্রতিবন্ধীত্বের জন্য মা-বাবার পূর্ব পাপ, অভিশাপ, অন্যায় অপরাধের শাস্তি ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি অপবাদ ও অবজ্ঞা সহ্য করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ধর্মীয় শিক্ষায় ও ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবন্ধীত্বের প্রতি সহনাভূতিশীল হতে শেখায়, তাই প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।