ঘ উদ্দীপকে জনাব ইকবাল আহমেদের কর্মকাণ্ড সমাজজীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।ইসলামি জীবন দর্শনে ইমাম হলেন নির্বাচিত নেতা। মুসলিম সমাজে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কাজে নেতৃত্ব দেওয়া তার দায়িত্ব। তিনি মুসলিম সমাজের সকল ক্ষেত্রে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বিবেচিত।একজন ইমাম যদি তার ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বের সাথে পালন করেন তাহলে সমাজ থেকে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি, নারী-পুরুষের সামজিক বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি, নিরক্ষরতা ইত্যাদি দূরীকরণের পথ সহজ হয়ে যাবে। কারণ সমাজের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের চেয়েও একজন ইমামের কথা ও কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সাথে পরামর্শ করে সে অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ইমামদের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইমামদের নেতৃত্বে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হলে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পশুপালন, মৎস্য চাষসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নতির মাধ্যমে দেশের অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এছড়া আমরা জানি বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- ভূমিকম্প, ঝড়, বন্যা, খরা ইত্যাদি কীভাবে ধৈর্য্যসহকারে মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়েও ইমাম সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন। তাদের এ শিক্ষা জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলবে।উদ্দীপকে দেখা যায়, ইকবাল আহমেদ ইমামতির পাশাপাশি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করেন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইকবাল আহমেদের কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় জনসাধারণ অপরকে সাহায্য করার বিষয়ে আন্তরিক এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করবে।আর এর চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে সংশ্লিষ্ট সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।