উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব মোশাররফের ছেলে জীমের কর্মে পিতামাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পালনের দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইবাদতের পরই পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছে যে, কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।" (সূরা বনি ইসরাইল: ১৭-২৩)
পিতামাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিশেষভাবে সেবাযত্ন করা প্রয়োজন। পিতামাতার অসুখ-বিসুখ হলে সন্তানকে যত্নসহকারে সেবা-শুশ্রুষা করতে হবে। তাদের সকল প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ সকল প্রয়োজন পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, "যদি পিতামাতার একজন কিংবা উভয়ে তোমার সামনে বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহলে তাদের প্রতি তুমি বিরক্তিসূচক 'উহ' শব্দটিও উচ্চারণ করবে না এবং তাদেরকে তিরস্কার করো না।" (সূরা বনি ইসরাইল: ২৩) পিতামাতার সেবার গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, "সে ধ্বংস - হোক, সে ধ্বংস হোক, সে ধ্বংস হোক। বলা হলো হে আল্লাহর রাসুল (সা.) কে ধ্বংস হবে? তিনি বলেন, যে তার পিতামাতার দুইজনের একজনকে অথবা উভয়কে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তাদের সেবা করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।" (সহিহ মুসলিম)
উদ্দীপকের জীম বৃদ্ধ পিতামাতার নিয়মিত খোঁজখবর নেয়, তাদের খাবার, ওষুধ এবং অন্য সকল ব্যবস্থাপনা করেন। এর দ্বারা তিনি পিতামাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পালন করেছেন। পিতামাতার প্রতি সন্তানের এমন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পরিবার যেমন সুখের হয়, তেমনি সমাজেও এর প্রভাবে শান্তি বিরাজ করে। কেননা একটি সুন্দর পরিবারে সুন্দর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সকল সন্তানদের উচিত, ইসলাম প্রদত্ত পিতামাতার অধিকারগুলো যথাযথ আদায় করবে। তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করা যাবে।