উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতরা জীবদ্দশায় সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ইসলামি পরিবারে যেমন সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তেমনি মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। কিছু দায়িত্ব জীবদ্দশায় আর কিছু দায়িত্ব ইন্তেকালের পর পালন করতে হয়। মাতা-পিতার জীবদ্দশায় তাদের প্রতি সন্তানের কর্তব্যসমূহ হলো— সদাচরণ করা, সুন্দর সম্পর্ক রাখা, বার্ধক্যে বিশেষ সেবা করা, ব্যয় নির্বাহ করা, কষ্ট না দেওয়া ইত্যাদি। যা থেকে উদ্দীপকের বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতরা বঞ্চিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতরা ৭০-৯০ বছর বয়সী। তাদের প্রায় সবাই বিত্তশালী। কেউ ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সচিব কেউ বা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। আবার আছেন বিত্তশালী ব্যক্তির স্ত্রীও। তাদের সন্তানসন্ততি থাকা সত্ত্বেও তারা বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত। এতে তারা জীবদ্দশায় সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যে থেকে বঞ্চিত। মাতা-পিতার জীবদ্দশায় সন্তানের নানা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন— বার্ধক্যে বিশেষ সেবা করা, সুসম্পর্ক বজায় রাখা, কষ্ট না দেওয়া, বিনয়ী হওয়া, ব্যয় নির্বাহ করা, বৃদ্ধ বয়সে সঙ্গ দেওয়া ইত্যাদি । যেমন আল্লাহ বলেন— 'যদি মাতা-পিতার একজন কিংবা উভয়ে তোমার সামনে বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহলে তাদের প্রতি তুমি বিরক্তিসূচক 'উহ' শব্দটিও উচ্চারণ করো না এবং তাদেরকে তিরস্কার করো না।' (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩)
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতরা জীবদ্দশায় সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর আমাদের সকলের উচিত মাতা-পিতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করা।