ভাইয়ের প্রতি যথাযথ কর্তব্য পালন না করায় পিন্টুর কর্মকাণ্ডটি যথার্থ হয়নি।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভাই-বোনের পারস্পরিক অনেক অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের বা ভাইয়ের প্রতি বোনের এসকল দায়িত্ব কর্তব্য পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভাই-বোনের পারস্পরিক অধিকারের মধ্যে প্রথমে বড় ভাই-বোনদের শ্রদ্ধা করতে হবে, অধিকার দিতে হবে, সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, অসুস্থ হলে সেবা ও সহযোগিতা করতে হবে। দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে পরস্পরের সাহায্য করতে হবে এবং সদাচরণ করতে হবে। এসব দায়িত্ব পালন একজন ভাইয়ের জন্য যেমন কর্তব্য অপর ভাইয়ের তেমন অধিকার।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পিন্টু তার ছেলে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান ও রাত জেগে সেবাযত্ন করেন। এর কিছুদিন পর তার ছোট ভাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে ইমামের কাছ থেকে পানি পড়া এনে খেতে বলেন। তার এরূপ কর্মকাণ্ডে যদিও সন্তানদের প্রতি তার কর্তব্য পালন হয় তারপরও তার ভাইয়ের প্রতি যথাযথ কর্তব্য পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের প্রতি যেমন কর্তব্য রয়েছে, তেমনি ভাই-বোনের প্রতিও কর্তব্য রয়েছে।
তাই ইসলামের দৃষ্টিতে পিন্টুর কর্মকাণ্ড মোটেও সঠিক নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তুমি তোমার আপনজনদের হক আদায় করে দাও।' (বনি ইসরাইল : ২৬) সুতরাং আল্লাহর আদেশ অমান্য করে, এবং ভাইয়ের যথাযথ চিকিৎসা না করিয়ে তিনি বড় অন্যায় কাজ করেছেন। যা ইসলামে অনুমোদন নেই। পরিশেষে বলা যায়, পিন্টু তার ভাইয়ের চিকিৎসা না করিয়ে তার কর্তব্য পালনে অবহেলা করেছেন। যা কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাজ । এজন্য পরকালে তাকে কঠিন বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।