রায়হান সাহেবের আচরণে স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি অভিভাবকত্বের অভাব ফুটে উঠেছে। পরিবারের ওপর এর প্রভাব অপরিসীম।
পরিবার হলো এমন একটি ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন যেখানে বৈবাহিক এবং রক্ত সম্পর্কের সূত্রে স্বামী-স্ত্রী তাদের সন্তানসহ একত্রে বসবাস করেন। আর যে পরিবার ইসলামি ভাবধারা, ইসলামের নীতিমালা ও ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি পরিবার বলে। ইসলামি পরিবারের সকল সদস্য মুসলিম।
পারিবারিক জীবন একটি শান্তির নীড়ম্বরূপ। এখানে স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, পিতামাতা, ভাইবোন সবাই মিলে সুখ-শান্তিতে বসবাস করে। এ সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাঁর নিদর্শনসমূহ এই যে, তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেমপ্রীতি ও সহৃদয়তা সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা রুম: ২১)
এছাড়াও বলা যায়, মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ ছাড়া সভ্য মানুষের জীবন অচল। বৃহত্তর সমাজ জীবনের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। ব্যক্তিজীবনে যেসব সৎ গুণাবলি অর্জন করা হয়, পারিবারিক জীবনে তার পরিচর্যা হয়ে থাকে। ব্যক্তিজীবন ভালো না হলে যেমন ভালো পরিবার গঠিত হয় না, তেমনি ভালো পরিবার না হলে আদর্শ ও সুন্দর সমাজ গঠিত হয় না। এজন্য স্বামী-স্ত্রী, পিতামাতা, ভাইবোন এদের সবাইকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে ইসলামি পরিবারের কোনো বিকল্প নেই।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে এটিই প্রতীয়মান হয়, রায়হান সাহেবের আচরণ ইসলামি পারিবারিক ব্যবস্থার পরিপন্থি।