সন্তানের প্রতি জনাব সোহেল ইমরানের তৎপরতায় সন্তানের প্রতি পিতার কর্তব্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সন্তান জন্মগ্রহণের পর পিতার অনেক দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। কেননা ইসলামি বিধানমতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পরই পিতার ওপর কতকগুলো গুরুদায়িত্ব ও কর্তব্য এসে পড়ে, যা পিতাকে অবশ্যই পালন করতে হবে। এ মর্মে প্রিয়নবি (সা.) ঘোষণা করেন-
حق الوالد على الولي ثلاثة أشياء أن يحسن اسمة الما ولد و يعلمه الكتاب
اذا عقل ويزوجة إِذا أفراق
অর্থ: পিতার ওপর সন্তানের হক হচ্ছে তিনটি। ১. জন্মের পর পরই তার জন্য উত্তম একটি নাম রাখতে হবে। ২. জ্ঞান-বুদ্ধি বাড়লে তাকে ইসলাম শিক্ষা দিতে হবে। ৩. আর সে যখন সামর্থবান হবে, তখন তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পরই শিশুর ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত-এর ফধ্বনি শোনাতে হবে। সন্তান জন্মের প্রথম কিংবা সপ্তম দিবসে ইসলামসম্মত নাম নির্বাচন করা ও সামর্থা অনুযায়ী আকিকা করতে হবে। ছেলে সন্তানের সময়মতো খাতনা করাতে হবে। মৌলিক চাহিদা পূরণ করে ঐকান্তিক দরদ, ভালোবাসা ও স্নেহমমতার কোমল পরশে সন্তানদেরকে অতি যত্নসহকারে প্রতিপালন করা উচিত। এ মর্মে আল্লাহর ঘোষণা-
وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
অর্থ: "আর পিতার কর্তব্য যথানিয়মে তাদের ভরণ-পোষণ প্রদান করা।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)
সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, রোগমুক্ত রাখা, স্বাস্থ্যবানরূপে গড়ে তোলা এবং জীবনের উন্নতি ও বিকাশকল্পে সুশিক্ষা প্রদানে পিতাকে যথোপযুক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিতা সর্বদা সন্তানের কল্যাণকামী হবেন এবং তাদের সৎপথে চালাবেন। তাদের জন্য দুআ করবেন। শিশু সন্তানের স্বাভাবিক ও সুদ্ধ বিকাশের জন্য পিতামাতার মধ্যে সম্প্রীতিময় দাম্পত্যজীবন একান্ত অপরিহার্য।