উদ্দীপকে বর্ণিত তারিকের পরিবার একটি আদর্শ পরিবার। একটি ইসলামি পরিবারকে আদর্শ পরিবার বলা হয়। কেননা ইসলামি পরিবার নৈতিকতা ও মানবিকতা শিক্ষার প্রধান মাধ্যম।
নৈতিক ও মানবিক জীবন গঠনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজে সুখে-শান্তিতে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য পরিবার এবং পারিবারিক বন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পারিবারিক জীবন মানুষের কুপ্রবৃত্তি, পশুবৃত্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা, সীমা লঙ্ঘন, অধিকার হরণ প্রভৃতি পশু চরিত্র থেকে মুক্ত ও পবিত্র করে। মানুষকে সুনিয়ন্ত্রিত, সুশৃঙ্খল, কল্যাণকর ও পবিত্র গুণবৈশিষ্ট্যে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলামি পরিবারে সদস্যদের মধ্যে প্রেমপ্রীতি, স্নেহ-মমতা, সমঝোতা, সহানুভূতি, শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, মানমর্যাদা, তাহজিব-তামাদ্দুন, আদব-কায়দা, সাহায্য-সহযোগিতা এবং পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সৃষ্টি হয়। যা বৃহত্তর সমাজ ও জাতিগঠনে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।পারিবারিক জীবনে ছোট-বড় সব সদস্যের নৈতিক চরিত্র গঠন ও উৎকর্ষ সাধনের এক বিশেষ সুযোগ রয়েছে। সন্তানকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তোলা এটিই হলো শ্রেষ্ঠ শিক্ষায়তন। সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিবারেই আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বিনয়, নম্রতার শিক্ষা দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে তারিকের পিতামাতা তাকে অক্ষর জ্ঞানসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি ও ছোটখাটো বিষয় শেখাচ্ছেন। তাছাড়া বড়দের সালাম দেওয়া, খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা ও অন্যান্য আদব-কায়দা শেখাচ্ছেন। তারিকের পিতামাতার এসব কাজে ইসলামি পরিবারের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠায় বলা যায়, তারিকের পরিবার একটি আদর্শ পরিবার।