উদ্দীপকে উল্লিখিত, উচ্চশিক্ষিতদের হতাশার যে সমস্ত কারণ রয়েছে তার মধ্যে কতিপয় হলো— তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা না রাখা, শোকর বা কৃতজ্ঞ না হওয়া, সবর বা ধৈর্যধারণ না করা, কর্তব্যপরায়ণ না হওয়া ইত্যাদি।
মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট, বালা-মুসিবত, অভাব-অনটন থাকবেই । এগুলোকে যদি মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ মনে করে এবং তার ওপর ভরসা করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাহলে আল্লাহ মানুষের পরনির্ভরতা দূর করে দেন। আল্লাহ যেভাবে মানুষকে রেখেছেন সেই অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট না থাকাও হতাশার অন্যতম কারণ। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহ যেভাবে রেখেছেন তার ওপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ধৈর্যধারণ করতে হবে। কোনোকিছু থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও হতাশার আরেকটি কারণ। তাই কোনো কিছুই দ্রুত পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা যাবে না। বরং সর্বদা আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে, আল্লাহ যে অবস্থায় রেখেছেন ধৈর্যের সাথে তা মোকাবিলা করে আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে হতাশা কাটিয়ে উঠতে হবে। আল্লাহর যিকর দ্বারা মানুষের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। মানুষের যাবতীয় হতাশা দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়। আল্লাহর স্মরণ বা যিকর যিকরে কলবী বা আন্তরিক স্মরণ দ্বারা উদ্দীপকে উল্লিখিত * উচ্চশিক্ষিতদের হতাশা দূর করা যায়— কারণ আল্লাহর প্রতি ইমান আনার ঘোষণা দিয়ে আমরা আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে নেবার অঙ্গীকার করে থাকি, মূলত এটি আল্লাহর সাথে কৃত একটি ওয়াদা। মনে মগজে সবসময়ের জন্য এ ওয়াদা বা অঙ্গীকার স্মরণ রাখার নাম যিকরে ক্বলবী বা আন্তরিক স্মরণ বা মনের যিকর। এর মাধ্যমে বান্দা সবসময় সবকিছুতে আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেয় অন্য লোকের সুখ, সাফল্য, উন্নতি দেখে তার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে না। এর মাধ্যমে তিনি তার মনকে সকল প্রকার সংকীর্ণতা, কলুষতা, নির্লিপ্ততা থেকে মুক্ত রাখতে পারেন। জাগতিক সবকিছুকে তুচ্ছ মনে করেন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই প্রাধান্য দেন। ফলে তিনি হতাশামুক্ত জীবনযাপন করতে পারেন।