মানবজীবনে উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'খ'-এর বিশ্লেষিত বিষয়টি হলো ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ যার প্রভাব অনেক। ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত হাদিসটি হলো— “হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সেই ব্যক্তি শক্তিমান নয় যে মল্লযুদ্ধে সক্ষম, বরং শক্তিমানতো সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” (বুখারি ও মুসলিম)
শারীরিক শক্তিমত্তাই মানুষের মূল শক্তি নয়। ব্যক্তি মল্লযুদ্ধে দৈহিক ক্ষমতা দিয়ে প্রতিপক্ষকে সহজেই পরাজিত করতে পারে। আসল শক্তিমান সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্রোধের ফলে মানুষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। যথাযথ আচরণ করতে পারে না। নিজের এবং নিজের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। এ অবস্থায় ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংশোধন। বস্তুত এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) একে 'জিহাদুল আকবর' বা বৃহত্তম জিহাদ বলেছেন। যেমন- একবার এক যুদ্ধ থেকে জয়ী হিসেবে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর তিনি বলেন, “আমরা ছোট যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম বড় যুদ্ধের দিকে।” (বায়হাকি) সেজন্য ক্রোধ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যারা জয়ী হয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখে, তারাই প্রকৃত শক্তিমান ও বিজয়ী বীর
অতএব বলা যায়, একজন ব্যক্তি নিজেকে প্রকৃত বীর হিসেবে আল্লাহর, দরবারে স্বীকৃতি লাভ করতে পাবে ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে । তাই ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা বীরত্বের পরিচায়ক।