উদ্দীপকে উল্লিখিত রিয়াদের বক্তব্যে নারীর প্রতি সম্মানবোধ প্রকাশ পেয়েছে।
নারীদের প্রতি সম্মানবোধের ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে আমাদের নানা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন- فَاتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ অর্থাৎ, "তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে অবশ্যই ভয় করে চলবে।" বিদায় হজের ভাষণের মহানবি (সা.) নারী জাতির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা Coal ache 2 o وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ব্যবহার করে জীবনযাপন করবে।" (সূরা আন-নিসা: ১৯) রাসুল (সা.) বলেন, "তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।" আমাদের প্রিয় নবি নারীদের শ্রদ্ধা করতেন, সম্মান করতেন এবং স্ত্রী ও মেয়েদের ভালোবাসতেন। কন্যা সন্তান প্রসঙ্গে মহানবি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির কোনো কন্যা সন্তান থাকে আর সে তাকে জীবন্ত কবর দেয় না, তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না, ছেলে সন্তানকে কন্যা সন্তানের ওপর প্রাধান্য দেয় না সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে, একদা জনৈক সাহাবি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের ওপর স্ত্রীদের কী অধিকার রয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, "তুমি যা খাবে তাকেও তা-ই খাওয়াবে, যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরিধান করাবে, তাদের মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না, তাদের গালিগালাজ করবে না, আর গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও তাদের বিচ্ছিন্ন রেখ না।" নারীর প্রতি সম্মানবোধ আখলাকে হামিদাহর অন্যতম।
উদ্দীপকে আমজাদ মেয়েদেরকে হীন, নীচ ও ক্ষুদ্র বলে মনে করে। এজন্য তার ক্লাসের বান্ধবীদের ঘৃণা করে এবং তাদের সাথে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ ব্যবহার করে। কিন্তু রিয়াদ আমজাদকে বলল, বন্ধু তোমার এ আচরণ মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। আর রিয়াদের এ বক্তব্যে নারীর প্রতি সম্মানবোধের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।