উদ্দীপকে আব্দুল লতিফের আচরণে যৌতুক নামক সামাজিক অনাচার প্রকাশ পেয়েছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বিবাহের সময় বা পরে কনের অভিভাবক ও পরিবার বাধ্য হয়ে পাত্রপক্ষকে যে সম্পদ, নগদ অর্থ, অলংকার, আসবাবপত্র ইত্যাদি প্রদান করে তাকে যৌতুক বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ। যার প্রতিফলন আব্দুল লতিফের আচরণেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে আব্দুল লতিফ বিয়ের পর ব্যবসার জন্য শ্বশুরের নিকট এককালীন মূলধন দাবি করেন এবং এ বিষয়ে স্ত্রীকেও চাপ দিতে থাকেন। তার এ কাজটি যৌতককেই ইঙ্গিত করে। সমাজজীবনে যৌতুক প্রথা অত্যন্ত নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে। যৌতুক হৃদয়হীন, অমানবিক ও কলঙ্কিত সামাজিক অনাচার। যৌতুক প্রথার কারণে সমাজে নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা স্বামী যখন স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে তখন স্ত্রী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় । তাছাড়া যৌতুক প্রথা নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার লাভের পথে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এটি নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করে। যৌতুকের লোভে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহ ও বর-কনের বয়সের অসাদৃশ্যপূর্ণ বিয়ে সংঘটিত হয়। যা জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক ও সন্তানের সামাজিকীকরণের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিবারে মারাত্মকভাবে শান্তি বিঘ্নিত হয় । তাই বলা যায়, আব্দুল লতিফের আচরণ অর্থাৎ যৌতুক সমাজে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।