জনাব কায়সারের আচরণে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্যটি লঙ্ঘিত হয়েছে।
কেননা মহানবি (সা.) বলেছেন- “তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা স্ত্রীদের নিকট উত্তম।” (তিরমিযি) স্ত্রীর সাথে স্বামীর সদাচরণ করা অবশ্য কর্তব্য । কারণ স্ত্রী তার সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। সন্তান লালন-পালন করে, ঘর সংসার দেখাশোনা করে। এমনকি অনেকে স্বামীর ব্যবসা এবং কৃষিকাজেও সরাসরি অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া স্বামীর অসুস্থতায় সেবা করে, বিপদে সাহায্য করে । যদি স্ত্রী কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত কোনো অন্যায় করে ফেলে, তবে স্বামী তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মাফ করে দেবেন এবং সংশোধন করে দেবেন। স্ত্রীর কোনো ত্রুটি হলে সেদিকে না তাকিয়ে তার সদগুণের দিকে তাকিয়ে স্বামীকে খুশি হতে হবে। এ মর্মে আল্লাহর নির্দেশ, “তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর, তাহলে এ হবে যে, তোমরা একটা জিনিসকে অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তার মধ্যে বিপুল কল্যাণ নিহিত রেখে দেবেন।” (সূরা আন-নিসা : ১৯) মহানবি (সা.) বলেছেন, “যদি স্ত্রীর কোনো ব্যবহারে স্বামী অসন্তুষ্ট হয়, তবে অন্য ব্যবহারে খুশি হবে।” (মুসলিম : ১৪৬৯) আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তবে তোমরা যদি তাদের ক্ষমা কর, তাদের ওপর জোরজবরদস্তি না কর এবং তাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করে দাও, তাহলে জেনে রেখ— আল্লাহ নিজেই বড় ক্ষমাশীল ও দয়াবান।” (সূরা আত-তাগাবুন : ১৪ সেজন্য স্ত্রীর সাথে সদাচরণ করা স্বামীর কর্তব্য ।
উদ্দীপকে জনাব কায়সার তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করেন। তিনি নিজে দামি ও সুন্দর পোশাক পড়লে স্ত্রীর ব্যাপারে যত্নশীল নন। তার এ আচরণে বুঝা যায় তিনি স্ত্রীর প্রতি কর্তব্য পালনের বিষয়টি লঙ্ঘণ করেছেন।