কামরুলের আচরণের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ সে তার মায়ের অসুস্থতায় কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। অথচ তার উচিত ছিল মায়ের অসুস্থতায় সর্বাত্মক সাহায্য করা এবং তার সাহায্য করার মতো সামর্থ্যও ছিল।
পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করা, তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, তাঁদের মনে কষ্ট দেওয়া ও তাঁদের নাফরমানি করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বড় গুনাহ। শুধু তাই নয়, যারা তা করে তাদের ওপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হতে থাকে। কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
فهل يكُم إِن تَوليكُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِعُوا أَرْحَامَكُمْ أو لتلف الذِينَ لَعَنَهُمُ اللهُ
অর্থ : তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ এদেরই লানিও করেন। (সূরা মুহাম্মদ ২২-২৩) হযরত আবু বকর (রা) বলেন, নবি কারিম (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ্ তায়ালা চাইলে যত
গুনাহ্ এবং যেকোনো গুনাহই ক্ষমা করে দিবেন। তবে পিতা-মাতার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও তাঁদের নাফরমানি করলে তিনি তা কখনো ক্ষমা করবেন না। কেননা এর শাস্তি মৃত্যুর পূর্বেই এ দুনিয়ায়ই শুরু করে দেওয়া হবে।” (মিশকাত)
কামরুল তার মায়ের অসুস্থতায় সেবা করে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে জান্নাত লাভের সুযোগ ছিল। কিন্তু সে নিজ মায়ের জন্য কিছুই করেনি। তাই সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া এ পৃথিবীতে আল্লাহর হকের পরই মায়ের হক। কামরুল মায়ের হক আদায় করেনি । সুতরাং বলা যায়, কামরুলের আচরণের ফলে সে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।