হামিদের স্ত্রীর কাজটি হলো সুদ।প্রতিটি কর্জ বা ঋণ যা মুনাফা আকর্ষণ করে, তাই সুদ। উদ্দীপকে হামিদের স্ত্রী মরিয়ম দশ হাজার টাকা নির্দিষ্ট সময় পর অতিরিক্ত মুনাফাসহ ফেরত দেওয়ার শর্তে ঋণ প্রদান করেন। ঋণ পরিশোধের সময় এরূপ অতিরিক্ত মুনাফা গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। সমাজে সুদের প্রভাব মারাত্মক ক্ষতিকর।সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা হচ্ছে ন্যায়নীতিহীন নির্যাতনমূলক। এতে সম্পদই মুখ্য, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করা হয় না। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে গ্রহীতাকে অনেক সময় সর্বস্বান্ত হতে হয়। বিপদে পড়ে সুদগ্রহণ করতে গিয়ে মরণফাঁদে পা রাখতে হয়। সহায়-সম্বল সব খোয়াতে হয়। জাহিলিয়া যুগে এভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের কারবার প্রচলিত ছিল। এ ব্যবস্থার মারাত্মক পরিণতিতে সহায়-সম্বল হারিয়ে মানুষ তাদের স্ত্রী কন্যাকে পর্যন্ত সুদখোরদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হতো।সুদ ব্যবস্থা দরিদ্রদের শোষণ করে। এতে ধনী আরও ধনী হয় এবং শোষিত, দরিদ্র শ্রেণি আরও দরিদ্র হয়। সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। এ ব্যবস্থা সমাজের জন্য কাম্য নয়।আমরা এ ন্যায়নীতি বিবর্জিত নির্যাতনমূলক সুদ প্রদান ও গ্রহণ থেকে দূরে থাকব এবং ন্যায়ভিত্তিক ভারসাম্যময় ইসলামি অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হব।