শান্তির দূত বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি মদিনা ও এর পাশের অঞ্চলগুলোর মুসলমান এবং নানা ধর্মের ও নানা বর্ণের লোকদের নিয়ে একটি সনদ প্রণয়ন করেন, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার মানবিক, সামাজিক, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যে সনদের মাধ্যমে একটি বহুজাগতিক সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, ইতিহাসে এ সনদটিকে 'মদিনাসনদ' নামে উল্লেখ করা হয়। এটি মানবসভ্যতার প্রথম লিখিত রাষ্ট্রীয় সহবিধান। এ চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহবাস্থান, অত্যাচারিত-নিপীড়িতকে সাহায্য করা এবং চুক্তিভুক্ত সব পক্ষের মান-মর্যাদা ও ধর্মবিশ্বাসের অধিকার সংরক্ষণ। মদিনা সনদ মানবসভ্যতায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবনে বিরাট পরিবর্তন সাধন করে। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নৈরাজ্য, সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করে যুদ্ধবাজ গোত্রগুলোর মধ্যে সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করে যেখানে সকল সম্প্রদায়ের লোক পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে বসবাস করে। এভাবে মহানবি (সা.) একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।