উদ্দীপকে উল্লিখিত ইখলাসের বক্তব্যে যা ফুটে উঠেছে, তা পাঠ্যবইয়ের ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যে সমাজের প্রত্যেক মানুষের অধিকার, চাহিদা, দায়দায়িত্ব ইসলামের অনুশাসন দ্বারা নির্ধারিত হয়, সেটিই ইসলামি সমাজব্যবস্থা। ইসলামি সমাজ সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আত্মীয়স্বজনের প্রাপ্য অধিকারসমূহ যথাযথভাবে আদায় করার জন্য ইসলাম নির্দেশ দেয়, কুরআনের ঘোষণা- "তোমরা আত্মীয়স্বজনের প্রাপ্য দিয়ে দাও।" (সূরা বনি ইসরাইল: ২৬) অন্যত্র বলা হয়েছে, "তারাই সত্যিকার ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি, যারা মহান আল্লাহ পাকের ভালোবাসায় আত্মীয়স্বজনকে ধনসম্পদ দান করে।" (সূরা আল বাকারা: ১৭৭) মৃত নিকটাত্মীয়দের সম্পদে অপর আত্মীয়ের হক (প্রাপ্য) নির্ধারিত আছে।
মহান আল্লাহ বলেন, "মাতাপিতা ও আত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পদে পুরুষদের অংশ রয়েছে। আর নারীদেরও অংশ আছে মাতাপিতা ও আত্মীয়রা যা পরিত্যাগ করে যায় তাতে।” (সূরা আন-নিসা: ৭) নিকটাত্মীয়দের দান করাকে উৎসাহ প্রদান করে মহানবি (সা.) বলেন, "নিকটাত্মীয়কে অর্থদান করা হলে একসাথে দুটি সওয়াব লাভ করা হয়। একটি হলো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার সাওয়াব আরেকটি হলো সাদাকার সাওয়াব।” (বুখারি)।
তাই বলা যায়, ইসলামি সমাজেই ভাইবোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয় না। যেমনটি উদ্দীপকে ইখলাসের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।