জনাব সেলিমের ধান বণ্টন পদ্ধতি ইসলামের উশর' বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ।
বায়তুল মালের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে উশর। মুসলিম 1 মালিকানাধীন ভূমির একটি বিরাট অংশের বার্ষিক রাজস্ব প্রদানকে উশর বলা হয় । এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, এগুলোর ফল খাও যখন ফলবান হয় এবং এগুলোর ফসল কাটার সময় আল্লাহর হক আদায় করো আর সীমা অতিক্রম করো না। (সূরা আল- আনআম : ১৪১) হাদিসে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে; আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেন, যে ভূমির পানি সরবরাহ বৃষ্টি, ঝরনা কিংবা নদী থেকে হয়ে থাকে, তার ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে গ্রহণ করা হবে । আর যে জমিতে (কূপ খনন করে) পানি সেচ করা হয়, তার ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ গ্রহণ করা হবে। ইসলামি শরিয়ত উশরি জমির ধরন ও প্রকৃতি নির্ধারণ করে নিয়েছে- ১. আরব উপদ্বীপের সব জমি । ২. স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে এমন এলাকার জমি। ৩. যুদ্ধ জয়ের পর মুজাহিদদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া বিজিত এলাকার জমি। ৪. বৃষ্টি, নদী ও ঝরনার পানিতে সিক্ত পতিত ও খারাজি জমি। ৫. মুসলিমদের আবাদি জমিতে রূপান্তরিত বসতবাড়ি যা উশরি পানি দ্বারা সিক্ত হয়। ৬. সব আবাদি জমি মুসলিমদের মালিকানাভুক্ত। এসব জমিতে উৎপন্ন ফসলের উৎপাদনের ধরনভেদে দশ ভাগের এক ভাগ বা বিশ ভাগের এক ভাগ উশর আদায় করা হবে।
উদ্দীপকে সেলিম তার জমিতে উৎপাদিত ৫০০০ কেজি ধানের মধ্যে ২৫০ কেজি ধান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়। অর্থাৎ সে উৎপন্ন ফসলের ২০ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে আদায় করে। তাই তার এ বণ্টন পদ্ধতি উপর হিসেবে গণ্য হবে।