উদ্দীপকে অধ্যাপক আবদুল হাই-এর বক্তব্যে ইসলামের যাকাত বিধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
যাকাত আরবি শব্দ। যার অর্থ, বৃদ্ধি পাওয়া পবিত্রতা ইত্যাদি। পরিভাষায়, যদি কোনো মুসলমান নর-নারী সারা বছরের জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদে বছর শেষে নিসাব বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের অধিকারী হয় এবং তা পূর্ণ এক বছর তার কাছে সঞ্চিত থাকে তবে তার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত নির্ধারিত খাতে দান করাকে 'যাকাত' বলে বলে। যাকাত আদায় কাম্য বিত্তবান মুসলমানের ওপর যাতে ধনী-গরিবের দূরত্ব লাঘব হয়। মানুষের সাথে মানুষের বিশেষ করে ধনী-গরিবের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। এ ব্যাপারে মহানবি (স.) বলেন, الزكاة قنطرة الإسلام
অর্থাৎ, যাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধ। (মুসলিম) ইসলামের । যাকাত বিধানের ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা যায়। মানুষ অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। যাকাত আদায়ের ফলে সমাজে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা হ্রাস পায় ফলে তাদের অপরাধপ্রবণতাও দূর হয়। যার ফলে সমাজ থেকে বিভিন্ন অপরাধ দূর হয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। যাকাত সঠিকভাবে আদায়ের ফলে সমাজজীবনে পারস্পরিক সহানুভূতি, সহমর্মিতা, কল্যাণ কামনা ও ত্যাগের মনোভাব গড়ে উঠলেই সমাজজীবনে সুখশান্তি ভরে ওঠে।
উপরোক্ত আলোচনার প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে জনাব আব্দুল হাই এর বক্তব্যের সাথে ইসলামের যাকাত বিধানের মিল থাকায় জনাব আব্দুল হাই-এর বক্তব্যে ইসলামের যাকাত বিধানের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়।