উদ্দীপকে আল্লাহর নির্দেশ পালন বলতে-যাকাতকে বোঝানো হয়েছে। ইসলামি সমাজজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
জাকাতের সামাজিক গুরুত্ব: জাকাতের সামাজিক গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো-
১. ভ্রাতৃত্ববোধের উন্মেষ: আল্লাহ বলেন, "তারা যদি তাওবা করে, সালাত আদায় করে এবং জাকাত প্রদান করে তাহলে দ্বীনের সূত্রে তোমাদের ভাই হয়ে যাবে।" (সূরা তাওবা: ১১) প্রকৃতই এর মাধ্যমে মুসলিমদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।।
২. সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা: দরিদ্রতার অভিশাপমুক্ত সমৃদ্ধ ও উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাকাত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জাকাতলব্ধ অণ সামাজিক অভাব-অনটন বিমোচনেই ব্যয় হয়।
৩ . ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ়করণ: মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। কিন্তু ধনবৈষম্যের দরুন সে ভ্রাতৃত্ব ছিন্ন হয়ে যায়। ধনী ও গরিবের মধ্যে এক বিরাট ব্যবধান ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। নিয়মিত জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রদের ব্যবধান ঘুচে যায়। উভয় শ্রেণির মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপিত হয়। এভাবে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়। মহানবি (সা.)-এর অমর বাণী, "জাকাত ইসলামের (ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের) সেতু।" (মুসলিম) আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তারা যদি তওবা করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং জাকাত দেয়, তাহলে দ্বীনের সূত্রে তারা তোমাদের ভাই।" (সূরা তাওবা:)
৪. ত্যাগ ও সহানুভূতির মনোভাব জাগ্রতকরণের উপায়: জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো মতবাদ সমাজের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। সমাজজীবনে পারস্পরিক সহানুভূতি, সহমর্মিতা, কল্যাণ কামনা ও ত্যাগের মনোভাব গড়ে উঠলেই সমাজজীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠে। নিয়মিত জাকাতদানে সমাজে এ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে।
৫. দারিদ্রা লাঘব: ধনীদের দেওয়া জাকাতের অর্থে দরিদ্রদের দারিদ্র্য লাঘব হয় এবং সেই সাথে তারা দারিদ্রোর নিষ্ঠুর কশাঘাত থেকে মুক্তি পায়। রাসুল (সা.)-এর সত্যিকার অনুসারী সাহাবিগণ যাকাত ব্যবস্থা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে, সে সমাজে জাকাত গ্রহণ করার মতো দরিদ্র খুঁজে পাওয়া যেত না।
অতএব বলা যায়, ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান জাকাত যথাযথভাবে প্রাপকদের মাঝে বিতরণ করলে সমাজ সুখী ও সমৃদ্ধিশালী হবে এবং নিজের সম্পদ পবিত্র হবে। তৎসঙ্গে আল্লাহর নির্দেশ পালনের কারণে প্রচুর পুণ্যের অধিকারী হওয়া যায়।