অধ্যাপক আব্দুল হাই-এর বক্তব্যে ইসলামের যে বিধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা হলো জাকাত, যার সামাজিক প্রভাব অপরিসীম।
কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে জাকাত বলে । জাকাতের মাধ্যমে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এটি সমাজের নিঃস্ব, দরিদ্র ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষদের প্রতি ধনীদের সহানুভূতি সৃষ্টি করে। জাকাত দিলে সম্পদ কমে না, বরং সম্পদ বৃদ্ধি পায় ও পৰিত্র হয়। যা অধ্যাপক আব্দুল হাই-এর বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে অধ্যাপক আব্দুল হাই একাদশ শ্রেণিতে ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে বলেন, ইসলামের বিধান হলো— যারা বিত্তবান তারা অবশ্যই বছরান্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ নির্ধারিত খাতে ব্যয় করবে। এতে সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, পবিত্র হবে এবং সমাজে ধনী ও গরিবের মাঝে বৈষম্য দূর হবে। তার এ বক্তব্য জাকাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জাকাত একটি ফরজ ইবাদত। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্রদের প্রতি যেমন ধনীদের সহানুভূতি সৃষ্টি হয়, তেমনি দরিদ্র মানুষেরাও জাকাত আদায়কারী ব্যক্তির আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়। ফলে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সহানুভূতি সৃষ্টি হয় । তারা একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। তাছাড়া জাকাত জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সব মানুষের কল্যাণ সাধন করে । এটি অভাবহীন জীবন গড়ে তুলে সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, অধ্যাপক আব্দুল হাই-এর বক্তব্যে জাকাতেরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যার সামাজিক প্রভাব অপরিসীম।