ছক-২ নির্দেশিত অর্থব্যবস্থাটি হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি সম্পদের মালিকানা ভোগ করে এবং ইচ্ছামতো উৎপাদন, বণ্টন, বিপণন ও মুনাফা অর্জন করতে পারে। ফলে Monopoly market সহ মজুদদারি ও কালোবাজারি তৈরি হয়। পুঁজিবাদী বা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদে নিরঙ্কুষ মালিকানা স্বীকৃত। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার ভিত্তি হলো সুদ। ও অর্থব্যবস্থায় সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের মাধ্যমে সকল কারবার পরিচালিত হয় এবং পুঁজিহীনদেরকে শোষণ করে থাকে। সুতরাং ছক-২ এ অর্থনৈতিক যেসব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে তা পুঁজিবাদী বা ধণতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। পুঁজিবাদী বা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার এমন কিছু দিক বা মৌলিক দিক রয়েছে যা ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে না। যেমন- পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় নিরঙ্কুষ মালিকানার স্বীকৃতি রয়েছে কিন্তু ইসলাম নিরঙ্কুষ ও ব্যক্তি মালিকানা স্বীকার করে না। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার ভিত্তি হলো সুদ অথচ ইসলামে সুদ হারাম বা নিষিদ্ধ। সুতরাং পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার এ বৈশিষ্ট্য কোনোভাবেই ইসলাম স্বীকৃত পন্থা নয়। এছাড়া রয়েছে সম্পদের অসম বণ্টন ব্যবস্থা। অথচ ইসলাম চায় সম্পদ যাতে শুধু ধনীদের মধ্যে আবর্তিত না হয় বরং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও বণ্টননীতির মাধ্যমে সমাজের অসহায়, অভাবী ও দরিদ্র ও বঞ্চিতরা ও যাতে এর প্রত্যক্ষ সুবিধা পেতে পারে। সুতরাং এ কথা নির্দ্বিধায় বলা হয় যে, পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা হলো ইসলামি নীতির সাথে সাংঘর্ষিক একটি অর্থব্যবস্থা যা ইসলাম স্বীকৃত নয়।