উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। যাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা উদ্দীপকের দেশটির ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামি অর্থব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামি অর্থব্যবস্থার তাৎপর্য অপরিসীম। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের মামুন উচ্চশিক্ষার্থে একটি দেশে গমন করে দেখতে পায়, সে দেশে সৃষ্টিকর্তাকে সম্পদের মূল স্বত্বাধিকারী মনে করা হয়। সকল বিনিয়োগ ও লেনদেন লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে করা হয়। প্রত্যেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বছরান্তে মোট সম্পদের একটি অংশ রাষ্ট্রের বিশেষ তহবিলে জমা দেয়। সে আরও লক্ষ করেছে এখানে কেউ ভিক্ষা করে না। প্রকৃতপক্ষে এসব বৈশিষ্ট্য ইসলামি অর্থব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি প্রকাশ করে।উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ধনী-গরিবের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে ইসলামি অর্থব্যবস্থা দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।