উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামি অর্থব্যবস্থার সাথে বিদ্যমান পাশ্চাত্যের প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদৃশ্যও আছে। নিচে বিদ্যমান পাশ্চাত্য অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-১. উৎসগত: ইসলামি অর্থনীতির নীতিমালা, তত্ত্ব ও সূত্র কুরআন ও সুন্নাহ হতে উৎসারিত। পক্ষান্তরে, পুঁজিবাদী অর্থনীতির যাবতীয় নীতিমালা, তত্ত্ব ও সূত্র মানব রচিত।২. আধ্যাত্মিকতা : ইসলামি অর্থনীতি বস্তুগত কল্যাণের চেয়ে রুহানি বা আধ্যাত্মিক কল্যাণের ওপর জোর দেয়। পাশ্চাত্য অর্থনীতিতে রুহানি লাভ-ক্ষতি বলতে কিছু নেই। এটি তাদের কাছে কল্পনাবিলাস মাত্র।৩. আল্লাহর স্মরণ: ইসলামি অর্থনীতিতে তাকওয়ার মূল্য অনেক বেশি। এটি আল্লাহর অনুমোদিত পথ। পক্ষান্তরে, পাশ্চাত্য অর্থনীতিতে ব্যক্তি স্বার্থ বা রাষ্ট্রস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।৪. পরকালে চিন্তা: ইসলামি অর্থব্যবস্থায় আখিরাত চিন্তা প্রাধান্য পায়। পক্ষান্তরে, পাশ্চাত্য অর্থনীতি দুনিয়ার চিন্তা প্রাধান্য পায়।
৫. বৈধ-অবৈধ বোধ: ইসলামি অর্থনীতিতে হারাম-হালাল বেছে চলা হয়। পক্ষান্তরে, পাশ্চাত্য অর্থনীতিতে বৈধ-অবৈধের বালাই নেই।৬. ধর্ম: ইসলামি অর্থনীতি ইসলাম ধর্মের মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পক্ষান্তেের, পাশ্চাত্য অর্থনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্যান-ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে ধর্মের কোনো স্থান নেই।উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি, পাশ্চাত্য অর্থনীতির তুলনায় ইসলামি অর্থনীতি অধিক কল্যাণকামী।