উদ্দীপকে জনাব আব্দুল হামিদের কর্মকাণ্ডে ইসলামের উশর বিধান পালনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বায়তুল মালের আয়ের অন্যতম উৎস হলো উশর। উশর অর্থ এক-দশমাংশ। ইসলামি পরিভাষায়, মুসলিম মালিকানাধীন ভূমির একটি বিরাট অংশের বার্ষিক রাজস্বকে উশর বলা হয়। এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, "আর ফসল তোলার দিনে এর হক বা প্রাপ্য আদায় কর।” (সূরা আনআম: ১৪১) হাদিসে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "যে ভূমির পানি সরবরাহ বৃষ্টি, ঝরনা কিংবা নদী থেকে হয়ে থাকে, তার ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আর যে জমিতে (কূপ খনন করে) পানি সেচ করা হয়, তার ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ উশর হিসেবে গ্রহণ করা হবে।” (সহিহ বুখারি)
ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে, ফসল, ফল-ফলাদি, শাকসবজি, মধু ইত্যাদি সবকিছুতেই উশর ওয়াজিব। উশর ফসলের যাকাত। এজন্য যাকাতের খাতগুলোই উশরের অর্থ ব্যয়ের খাত হিসেবে বিবেচিত হবে। এ খাতগুলো হলো- ফকির, মিসকিন, যাকাতের কর্মচারী, সন্তুষ্টি, ক্রীতদাস ঋণমুক্তি, ফিসাবিলিল্লাহ ও মুসাফির। উশর পালনের ফলে সমাজের ধনী গরিবদের মাঝে বৈষম্য দূরীভূত হয়। সমাজের অর্থনীতি মজবুত হয়। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক আব্দুল হামিদ ফসল ওঠার সাথে সাথে নির্ধারিত অংশ বায়তুল মালে জমা দেন। তাই তার এরূপ কর্মে ইসলামের উশর বিধান পালনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।