আমি মনে করি, হাফিজ সাহেবের স্ত্রীর সিদ্ধান্ত সঠিক।
হাফিজ সাহেবের স্ত্রী প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকে টাকা না রেখে বরং সুদমুক্ত ইসলামি ব্যাংকে টাকা রাখার তাগিদ দেন। কেননা ইসলামি শরিয়তে সুদ হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৩০) অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২৭৬) সুদের পরিণতি সম্পর্কে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, "নবি করিম (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদ চুক্তি লেখক ও সুদি লেনদেনের সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন।" (মুসলিম) তাছাড়া ইসলামি ব্যাংকের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নীতিমালা ও কর্মপদ্ধতি ইসলামি শরিয়তের ভিত্তিতে উদ্ভাবিত ও পরিচালিত। ইসলামি ব্যাংকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আল্লাহর নির্দেশিত পথে সমাজ থেকে শোষণের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনে সহায়তা করা। ইসলামি ব্যাংক লেনদেন বিনিয়োগসহ তার সব পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে সুদ পরিহার করে চলে এবং ব্যবসায়ের ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালিত হয়। যেমনটা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “আল্লাহ ব্যবসায়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)।
তাই সুদ থেকে বাঁচার জন্য ইসলামি ব্যাংক খুবই প্রয়োজন। কেননা ইসলামি ব্যাংক শরিয়তসম্মত উপায়ে ব্যক্তি তার যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, হাফিজ সাহেবের স্ত্রী তার স্বামীর পেনশনের টাকা সুদমুক্ত ব্যাংকে রাখার তাগিদ দেন। এছাড়া সুদের ভয়াবহ পরিণতির কথাও উল্লেখ করেন। তাই বলা যায়, হাফিজ সাহেবের স্ত্রীর সিদ্ধান্তটি সঠিক।