হকদার তথা দরিদ্রদের নিকট তাদের প্রাপ্য পৌঁছে দেয়া ধনাঢ্য ব্যক্তির কর্তব্য। অধ্যাপকের মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা মহানবি (সা.) ইরশাদ করেন— “জাকাত মুসলিম ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে আর তা ব্যয় করা হবে দরিদ্র মুসলিমদের মধ্যেই।” (বুখারি ও মুসলিম)।
প্রদত্ত উদ্দীপকে বর্ণিত ধনাঢ্য ব্যক্তির জাকাতদানের পদ্ধতিটি ছিল ইসলামি বিধানের পরিপন্থি। জাকাতদানের ব্যাপারে ইসলামে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
উদ্দীপকটিতে লক্ষ করা যায়, ধনাঢ্য ব্যক্তির বাড়িতে জাকাতের কাপড় নিতে এসে দরিদ্র মানুষগুলো হুড়োহুড়ি সৃষ্টি করে। এতে পদপিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে কয়েক জন মারা যায়। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মূলত জাকাত প্রদানের পন্থা মহান আল্লাহ আল কুরআনের সুরা তাওবায় বর্ণনা করেন। এর ব্যতিক্রম হলেই সমাজজীবনে নানা অঘটন ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যেমনটি ঘটেছে উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার ক্ষেত্রে। জনৈক জাকাত প্রদানকারী ব্যক্তি জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করেছে জাকাত প্রদানের জন্য। এর দ্বারা মূলত জাকাতদানের মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। কেননা জাকাতদানের মুখ্য বা মূল উদ্দেশ্য হলো গরিবদের অবস্থার পরিবর্তন করা, যাতে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা লাভ করতে পারে এবং অভাব থেকে মুক্তি পায়। কারণ আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনযাপনের জন্য সম্পদ দান করেছেন। সকল মানুষ সমান সম্পদের অধিকারী নয়। কারও কম আবার কারও বেশি। ধনীর সম্পদে আল্লাহ তায়ালা গরিবের অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। গরিবের অভাব দূর করার জন্য জাকাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের ধনাঢ্য ব্যক্তি যদি স্বীয় পদ্ধতিতে জাকাত না দিয়ে প্রতিবছর তার নির্ধারিত জাকাতের সম্পদ দিয়ে কিছুসংখ্যক দরিদ্র অভাবী পরিবারকে ব্যবসায়ের মূলধন সৃষ্টি করে দিতেন, তাহলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারত। এতে করে জাকাতের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতো। - জাকাত বণ্টনের খাতগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "সাদাকা (জাকাত) কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য আর ইসলামের প্রতি মন আকৃষ্ট করার জন্য, ' দাসমুক্তির জন্য ঋণমুক্ত করার জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী ও অসহায় পথিকদের জন্য, এটি আল্লাহর বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ।”
সুতরাং উদ্দীপকের ধনাঢ্য ব্যক্তির উচিত আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় জাকাত প্রদান করা।