উদ্দীপকে 'খ' দেশের অর্থব্যবস্থা ইসলামি অর্থব্যবস্থা। এর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :
ইসলামি অর্থব্যবস্থা : অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলায় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যে অর্থনৈতিক নিয়মনীতি প্রণয়ন করা হয়, তাকে ইসলামি অর্থনীতি বলে। এর বৈশিষ্ট্য হলো-
ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক : ইসলামি অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক। অর্থাৎ কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে উৎসারিত অর্থব্যবস্থা হলো ইসলামি অর্থব্যবস্থা।
সুদ প্রথা মুক্ত : ইসলামি শরিয়তে হারাম ঘোষিত কাজের মধ্যে সুদ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে বেশি কঠোর। পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিকে ছেয়ে ফেলেছে। সুদ সম্পূর্ণ হারাম। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন- “আল্লাহ ব্যবসায়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।” (সূরা আল-বাকারা : ২৭৫) সুতরাং ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুদমুক্ত।
যাকাতভিত্তিক : যাকাত হচ্ছে ইসলামি সমাজের বিত্তশালী অংশের দায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের অধিকার। এবং যাকাত ব্যবস্থা ইসলামি অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
গণিমত গ্রহণ ও বণ্টন : ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে গনিমত তথা যুদ্ধলব্ধ অর্থ সম্পদ গ্রহণ এবং বণ্টন করা হয়। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মালে, রাসুল (সা.)-এর স্বজনদের জন্য, ইয়াতিমদের জন্য, দরিদ্রের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য । আর চার ভাগ সেনাবাহিনীর জন্য।
গুদামজাত নিষিদ্ধ : ইসলামি অর্থব্যবস্থায় পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। রাসুল (সা.) বলেন- “পাপাত্মা ছাড়া কেউ গুদামজাত করে না।” (মুসলিম)
তাছাড়াও ইসলামি অর্থব্যবস্থায় প্রতারণা ও ভেজাল নিষিদ্ধ, হালাল গ্রহণীয়, হারাম বর্জনীয়, জুয়া-লটারি নিষিদ্ধ, অপচয় ও অপব্যয় নিষিদ্ধ, আদল ও ইহসান প্রতিষ্ঠা, নির্যাতিত ও বঞ্জিতদের স্বার্থ সংরক্ষণ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।