জনাব আব্দুস সালাম মনে করেন যাকাত দিলে অর্থ কমে যায়। তার এরূপ ধারণা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।
কেননা যাকাত একটি ফরজ ইবাদত, যা পালন করা অবশ্য কর্তব্য। প্রত্যেক স্বাধীন ও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে যাকাত দিতে হবে। এর ধর্মীয় গুরুত্ব অধিক। আল্লাহ বলেন- “সালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর।” (বাকারা : ৪৩) অতএর, যাকাত আদায় আল্লাহর নির্দেশ তা অস্বীকারের উপায় নেই।
সম্পদ পবিত্রকরণ : যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয়। সম্পদ শুদ্ধ হলে বরকত ও রহমত পাওয়া যায়, ফলে সম্পদ বৃদ্ধি পায়। এজন্যই মহানবি (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত আদায় করে, সে তার সম্পদের দোষ দূর করে দেয়।” (মিশকাত)
কৃপণতা হতে মুক্তির উপায় যাকাত : যাকাত মানুষকে দানশীল ও উদার হওয়ার শিক্ষা দেয়। নিঃস্বার্থ ও বিনা উপকারে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ব্যক্তি নিয়মিত তার সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ ব্যয় করে। ফলে সে কৃপণতার জঘন্য ত্রুটি থেকে মুক্তি পায়। এ মর্মে আল্লাহ বলেন- “আর যারা মনের কৃপণতা থেকে মুক্ত, বস্তুত তারাই সফলকামী।” (তাগাবুন : ১৬)
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, যাকাত একটি ফরজ বিধান, যা সম্পদকে পবিত্র ও ব্যক্তিকে নির্লোভসহ সম্পদের রহমত ও বরকত লাভ করতে সহায়তা করে। তাই জনাব আব্দুস সালামের ধারণার সাথে ইসলামের কোনো সংগতি নেই।