“আর তাদের ধনীদের সম্পদে দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে”– এ বাণীটিতে ইসলামি অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ভারসাম্যপূর্ণ বন্টননীতি প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বন্টননীতি অনুসৃত হয়েছে। এখানে কেউ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতে পারে না। আবার কারো পক্ষে নিঃস্ব থাকাও সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবের অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন । যার মাধ্যমে গরিব মানুষেরা মূলধন গঠন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর তাদের সম্পদে দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। (সুরা আয-যারিয়াত: ১৯)।
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় আয়, ব্যয় ও বন্টননীতি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সর্বজনীন । এ অর্থব্যবস্থায় দুর্নীতি, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ ইত্যাদি শোষণমূলক পন্থায় অর্থ উপার্জনের সুযোগ নেই। আবার ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সীমালঙ্ঘন করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের জন্য কল্যাণকর। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। মূলত পৃথিবীর যাবতীয় অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি মানুষের পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করাই ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
সুতরাং বলা যায়, ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। উক্ত বাণীটিতে ইসলামি অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি প্রকাশ পেয়েছে।