অধ্যাপক হামিদের বক্তব্য হলো- “পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা মানুষের সঠিক কল্যাণ দিতে পারে না।” অধ্যাপক হামিদের এ বক্তব্য যথার্থ।
পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। এ দুটো অর্থব্যবস্থা মানুষের সার্বিক কল্যাণ দিতে পারে না। পুঁজিবাদ বা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দুটো শ্রেণি তৈরি হয়। একটি হলো শোষক শ্রেণি অপরটি হলো শোষিত শ্রেণি। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানবিকতার কোনো মূল্য নেই। সেখানে কাজই মুখ্য। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি ইচ্ছামত অর্থ উপার্জন ও দান করতে পারে। ফলে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ব্যবসাও করতে পারে। যেমন মদের ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, হাউজি ইত্যাদি। এ অর্থ ব্যবস্থা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়। আবার সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের থাকায় ব্যক্তি উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া এ অর্থব্যবস্থায় উপরিউক্ত বিষয়গুলো সমভাবে প্রযোজ্য। এ অর্থব্যবস্থায় জনগণের সম্পদ রাষ্ট্রের কয়েকজন কর্তাব্যক্তি কুক্ষিগত করে। তাই বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অভাব অনটন, দুর্ভিক্ষ লেগেই আছে। উত্ত অর্থব্যবস্থার বৈষম্য চিহ্নিত হয় উন্নত রাষ্ট্র, উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, অনুন্নত রাষ্ট্র ও দরিদ্র রাষ্ট্রের মাধ্যমে। এ দুটো অর্থব্যবস্থার বিপরীতে ইসলামি অর্থব্যবস্থা মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করেছে। এ অর্থব্যবস্থা মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিও প্রদান করে। ক্ষুধা ও দারিদ্র নির্মূল করে পারস্পরিক সহযোগিতা হাত সম্প্রসারিত করে।
উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে, পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অমূলকতা তুলে ধরে বলেন যে, পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা মানুষের সার্বিক কল্যাণ দিতে পারে না।
সুতরাং বলা যায় অধ্যাপক হামিদের বক্তব্য সঠিক ও বাস্তবসম্মত।